মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার হাজীপুর ইউনিয়নের ভূঁইগাও গ্রামে গতকাল রাত প্রায় ৯টার দিকে চোর সন্দেহে এক যুবককে গণপিটুনি দেওয়ার ঘটনা ঘটে। তাৎক্ষণিকভাবে হাজীপুর ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান নূর আহমদ চৌধুরী বুলবুল ও কুলাউড়া থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। তাদের দ্রুত পদক্ষেপে সম্ভাব্য বড় ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভূইগাও গ্রামের এক তরুণীর সঙ্গে পথিমপাশা ইউনিয়নের শালিকা গ্রামের এক যুবকের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। তরুণীর ফোন পেয়ে যুবক রাতে দেখা করতে ওই গ্রামের পাশের রাস্তায় আসে। এ সময় এলাকায় থাকা কয়েকজন যুবক তাকে দেখে সন্দেহ করে ধাওয়া দেয় এবং কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই তাকে মারধর শুরু করে।
পরে গ্রামবাসীর মধ্যে উত্তেজনা বাড়লে ইউনিয়ন পরিষদ ও থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে যান। পরদিন হাজীপুর ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে উভয় পক্ষের অভিভাবক ও এলাকাবাসীর উপস্থিতিতে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনার ভিত্তিতে ৫ লাখ টাকা দেনমোহর নির্ধারণ করে নিকাহ রেজিস্ট্রারের মাধ্যমে তাদের বিবাহ সম্পন্ন হয়। বিয়ের পর বর ইউনিয়ন কার্যালয় থেকে কনেকে নিয়ে নিজ বাড়ির উদ্দেশে যাত্রা করেন।
এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় দায়িত্বশীলতার আহ্বান জানানো হয়েছে।
ইউনিয়ন পরিষদ সূত্র জানায়, যাচাই-বাছাই না করে কাউকে সন্দেহের ভিত্তিতে গণপিটুনি দেওয়া অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। ভুল সিদ্ধান্তে প্রাণহানি বা আইনগত বড় জটিলতায় পড়ার সম্ভাবনা থাকে। তাই যেকোনো সন্দেহজনক ঘটনার ক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানানোই উত্তম।