সিলেট বিভাগের অন্যতম পর্যটনীয় অঞ্চলের নির্বাচনী আসন মৌলভীবাজার-৪ (কমলগঞ্জ-শ্রীমঙ্গল)। এই আসনে এবার প্রতিদ্বন্দ্বী ধানের শীষ নিয়ে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা মুজিবুর রহমান, স্বতন্ত্র বিএনপি নেতা মহসিন উদ্দীন মধু, এনসিপির শাপলা কলি নিয়ে প্রিতম দাস, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের রিক্সা প্রতীকে মাওলানা নূরে আলম হামিদী। আলোচনার মাঠে জামায়াত থাকলেও শেষ অবধি জোটিও সীদ্ধান্তে তারা মনোনয়ন প্রত্যাহ্যার করে। তবে জোট থেকে আসনটি উন্মুক্ত রাখায় ক্ষুব্ধ হয়ে জোটিও অপর দুই দলের কোন প্রার্থীকেই জামায়াত সমর্থন জানায় নি।
টানা সাত বার এই আসন থেকে এমপি হয়েছিলেন আওয়ামীলীগের আব্দুস শহীদ। ভোটের হিসেবে মূল ফেক্টর আসনের চা-বাগানের ভোটাররা। তবে সনাতনী ধর্মী ও চা-বাগানের সন্তান হিসেবে বাগানের বেশীরভাগ ভোট এনসিপির প্রিতম দাস পাবেন বলেই অনেকের ধারণা।
এদিকে জমিয়ত থেকে পদত্যাগ করে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের রিক্সা প্রতীক নিয়ে বরুণা পরিবারের মাওলানা নূরে আলম হামিদীও ভোটের মাঠে।
দীর্ঘদিন ১০ দলীয় জোটের ইসলামপন্থীদের একবাক্সের আওয়াজ উঠলেও শেষ অবধি দুই জোটই ধর্মভিত্তিক জোট না হয়ে রাজনৈতিক জোটের দিকে গড়িয়েছে। এ হিসেবে ইসলামপন্থীদের একবাক্সের বক্তব্য এখন বাস্তবতার বিপরীত। এদিকে ১০ দলীয় জোটের বড় দল জামায়াতের সমর্থন না পাওয়ায় বিপাকে রিক্সা ও শাপলা কলির প্রার্থীরা।
হিসেবনিকেশে ১০ দলীয় জোটের শক্ত অবস্থান না থাকলেও ধানের শীষের মুজিবুর রহমানের সাথে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হতে পারে স্বতন্ত্র প্রার্থী মহসিন উদ্দীন মধুর। অপরদিকে বিএনপির ভোটের একটি অংশ স্বতন্ত্রের বাক্সে এবং ১০ দলীয় জোটের ভোটও দুইভাগ হওয়ায় এই আসনে জামায়াতের ভোটব্যাংক এবং আওয়ামীলীগ অধ্যুষিত এই অঞ্চলে আওয়ামীলীগ সমর্থকদের ভোট ব্যাংক এখন মূল ফেক্টর। তবে বিশ্লেষকরা বলছেন এই আসনে জামায়াত ও আওয়ামীলীগের ভোটগুলা ভাগাভাগি হওয়ার সম্ভাবনা থেকে চতুর্মূখি লড়াইয়ের সম্ভাবনা রয়েছ।
অপরদিকে মৌলভীবাজার জেলার কোন আসনেই প্রার্থী না থাকলেও জমিয়তের উপস্থিতি বদলে দিচ্ছে ভোটের মাঠের হাওয়া। ইতিমধ্যেই মৌলভীবাজারের চারটি আসনে বিএনপির ধানের শীষের প্রার্থীদের পক্ষে মাঠে সরব রয়েছে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম। আজ (২৮ জানুয়ারি) মৌলভীবাজার-৪ আসনে বিএনপির প্রার্থী মুজিবুর রহমানের সাথে নির্বাচনী মতবিনিময় করেন মৌলভীবাজার জেলা ও কমলগঞ্জ উপজেলা জমিয়তের নেতারা।